bogalake-bandorban
bogalake

কম খরছে বান্দরবন এর বগালেক ভ্রমণ | বান্দরবন

বান্দরবন এর বগালেক, কিওক্রাডং ভ্রমণ নিয়ে কিছু কথা :

পরীক্ষা শেষ, প্র্যাকটিক্যাল বাকি আছে অথচ ঘণ্টা খানেক এর প্ল্যানে চলে গিয়েছিলাম সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবনে।
প্রথমেই বলে নেই বান্দরবন বলতে অনেকেই নীলগিরি, নীলাচল, মেঘলা, সাঙ্গু নদী এসবই বোঝে। কিন্তু বান্দরবনের মূল সৌন্দর্য দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে বান্দরবনের ভেতরের দিকে। এক ভাই বলেছিলো ইয়াং এইজে এসব জায়গা না ঘুরলে পরে আর পারবিনা কোনদিন। আপনি যদি পাহাড়ে উঠতে ভয় পান কিংবা পাহাড়ে ওঠার ইচ্ছা বা চেষ্টা না থাকে বা আপনি যদি প্রচুর হাঁটতে না পারেন, আর টানা চৌদ্দ-পনের ঘন্টা জার্নি করতে না পারেন তবে এ জায়গা আপনার জন্য নয়।

keokradong
keokradong

বিস্তারিত :

কল্যাণপুর থেকে ঢাকা টু বান্দরবনগামী বাসের টিকেট কাটতে পারবেন। শ্যামলী, হানিফ, ডলফিন বিভিন্ন বাস রয়েছে। আমরা শ্যামলী বাসের টিকেট কেটেছিলাম। মূল্য ৬৩০ টাকা। বাস ছাড়বে ১০:১৫-১০:৩০ টায়। ভোর বেলা গিয়ে বান্দরবন শহরে পৌছাবেন। সেখান থেকে অটো নিয়ে যাবেন রুমা বাস স্ট্যান্ড। অটো ভাড়া ১৫ টাকা একজন। ৮:০০ টা থেকে রুমা বাস স্ট্যান্ড থেকে রুমা বাজার গামী বাস ছাড়া শুরু করে। বিকেল ৩:৩০ পর্যন্ত বাস পাওয়া যায়। এক ঘন্টা পরপরই বাস পাবেন। ভাড়া ১১০ টাকা। তিন ঘণ্টা বা আরেকটু বেশী সময় লাগবে রুমা বাজার পৌছাতে। সেখানে গিয়ে গাইড ভাড়া করতে হবে আপনাকে। গাইড ছাড়া আপনি রুমা বাজার থেকে ভেতরের দিকে যেতে পারবেন না। এটা আর্মি কতৃক নির্দেশিত। গাইড আগে থেকে ঠিক করে যাওয়া ভালো। নিচে আমরা যে গাইডকে ঠিক করেছিলাম তার নাম্বার দিয়ে দিবো। যাই হোক রুমা বাজারে আপনার গ্রুপ এর প্রত্যকের ডিটেইলস আর্মি ক্যাম্পে লিখে জমা দিয়ে সাইন করে সেখানে ইন হতে হবে। পাচটার পর আর বগালেকের উদ্দেশ্যে ইন হওয়া যায় না। এরপর গাইড গাড়ি ভাড়া করবে আপনার জন্য কমলাবাগান যাওয়ার উদ্দেশ্যে। গ্রুপ যত বড় নিবেন তত আপনার খরচ কম হবে, পাহাড়ে চড়ার সময় ও বড় গ্রুপ হলে মনে সাহস থাকে। গ্রুপ সাত-আটজন পর্যন্ত হলে ল্যান্ড ক্রুজার ভাড়া করা হয়। ভাড়া ২০০০ টাকা। আর যদি বড় গ্রুপ হয় তবে চান্দের গাড়ি ভাড়া করা হয়। ভাড়া ২৫০০ টাকা। বুঝতেই পারছেন কেন বড় গ্রুপের কথা বলেছি। গাড়িতে কমলাবাগান পর্যন্ত যেতে সময় লাগবে দেড় ঘন্টা বা একটু বেশী। বৃষ্টি হলে গাড়ি ধীরে চলে সময় বেশী লাগে। কমলা বাজার নেমে আপনাকে লাঠি দেয়া হবে পাহাড়ে ওঠার জন্য। কিনতে হবে আর কি।

bogalake
bogalake

এরপর বগালেক পাহাড়ে উঠতে হবে যার উচ্চতা প্রায় ১১৭৩ ফুট। চল্লিশ মিনিট লাগার কথা। আমাদের কম লেগেছিলো। পাহাড়ের ওপর একটা ছবির মত গ্রাম, তার পাশেই বগালেক। বিশালাকৃতির এই লেক দেখে আপনার এই বিশাল জার্নি স্বার্থক মনে হবেই। এখানে ঢুকেই আর্মি ক্যাম্প রয়েছে সেখানে নাম এন্ট্রি করতে হবে। এই লেকটির সৃষ্টি নিয়ে বেশ কিছু মিথ রয়েছে, স্থানীয়রা বলতে পারবেন। তবে কেউই সঠিক জানেনা কিভাবে এই বিশাল পাহাড়ের খাঁজে এর সৃষ্টি হয়েছে। গভীরতা প্রায় ১৫০-২০০ ফুট এই লেকের। যাই হোক কটেজ ফাঁকা থাকলে একদম লেকের গা ঘেষে যে তিন চারটা রয়েছে সেগুলো নিবেন। ব্যালকনি থেকে লেক দেখার অনুভুতিই আলাদা। জন প্রতি কটেজ ভাড়া ১৫০ টাকা। সেটা যেকজনই হন না কেন। খাবার ডিম নিলে ১২০ টাকা, মাংস নিলে ১৫০ এই দুটো প্যাকেজ সিস্টেম। খিচুড়ি ডিম নিলে ৮০। প্রচন্ড মিষ্টি পাকা পেপে পাবেন, পাবেন গাছ পাকা কলা। ডাব সহ বেশ কিছু ফল। এখানে সারাদিন কারেন্ট থাকেনা। সন্ধ্যার পর সৌর বিদ্যুত পাবেন। যেখানে খাবেন সেখানে ফোন চার্জ দিতে পারবেন। যদিও নেটওয়ার্ক পাবেন না খুব একটা। আর টুরিস্ট একদম টুইটুম্বর হলে জেনারেটর অন করা হয়। এই গ্রামে ৩০ টি উপজাতি পরিবার থাকে। ওইদিন লেকের পাড়ে চিল করে আড্ডা দিয়ে পরদিন খুব ভোরেই রওনা দিতে পারেন কিওক্রাডাং এর উদ্দেশ্যে। যেতে আসতে সব মিলিয়ে ঘন্টা পাচেক লাগতে পারে। যদিও এটা আপনার হাঁটার ওপর ডিপেন্ড করে। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে কিওক্রাডাং ৩১৭২ ফিট উপরে। আমাদের যেতে ২ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আর নামতে ১ ঘন্টা ১৩ মিনিট লেগেছিলো। গাইড রীতিমমত হিমশিম খাচ্ছিলো আমাদের সাথে তাল মেলাতে। পথে দুটো ঝরনা পাবেন একটার নাম রক হিল, আরেকটা চিংড়ি ঝরনা বেশ সুন্দর দুটোই। দুপুরে কিওক্রাডাং এর চূড়ায় খেতে হবে। কি খাবেন গাইডকে বলে রাখতে হবে। চাইলে চূড়ার কটেজে রাতটা থেকেও আসতে পারেন। জনপ্রতি ৩০০ টাকা সব কটেজ। ও হ্যাঁ গাইডের থাকা খাওয়ার খরচ সব আপনাকে দিতে হবে। গাইড পার ডে ৬০০ টাকা রেট করা আর্মি থেকে। বারগেইন করলে ৫০০ তে নামতে পারবেন। খাওয়া দাওয়া কিন্তু আলাদা। ব্যাক করার প্রসেস ও সেইম। রুমা বাজার এসে আর্মি ক্যাম্পে গাইডসহ আপনাকে রিপোর্ট করে আউট হতে হবে। চারটার পর এই এলাকা থেকে আর্মি আপনাকে আউট হওয়ার পারমিশন দেবেনা। আর বিকেল সাড়ে তিনটার মধ্যে রুমা বাজার না আসতে পারলে বান্দরবন গামী বাস ধরতে পারবেন না। অগত্য তখন আপনাকে চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করে চার পাঁচ গুন বেশী ভাড়া গুনতে হবে।
আর গাইড সম্পর্কিত যে কোন কমপ্লেইন আপনি রুমা বাজার আর্মি ক্যাম্পে এসে করবেন। সত্যতা প্রমান হলে তার লাইসেন্স বাতিল হবে। রুমা বাজার থেকে কিছু দূরে রিঝুক ঝরনা দেখে আসতে পারেন সময় থাকলে। গরমে পানি থাকেনা।
গরমে না গিয়ে শীতে এই টুরে যাওয়া ভালো। প্রচুর টুরিস্ট পাবেন তখন আশেপাশে। বর্ষায় পাহাড়ে চড়া রিস্কি। আমরা বৃষ্টির ভেতরই গিয়েছিলাম যদিও।

আমাদের গাইডের নাম ছিলো আলমগীর ভাই।
ফোন : ০১৭৩৯৩৪১১৩৬।

বি দ্র : এই জায়গা গুলো আপনার আমার দেশের সৌন্দর্য। দয়া করে পাহাড়ের ওপর, লেকে, রাস্তায় কোন আবর্জনা ফেলে এই সৌন্দর্যকে নষ্ট করবেন না।

হ্যাপি ট্র্যাভেলিং।

লিখেছেনঃ Ehsaan Nayeem

About sinan

Check Also

kaptai-lake

কাপ্তাই লেক ভ্রমণ | চট্রগ্রাম

কাপ্তাই লেক ট্যুর ১০ মে পরীক্ষা শেষ করে ৩ বন্ধু রাতের ট্রেনে রওনা দিলাম চট্টগ্রামের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *