kaptai-lake
kaptai-lake

কাপ্তাই লেক ভ্রমণ | চট্রগ্রাম

কাপ্তাই লেক ট্যুর

১০ মে পরীক্ষা শেষ করে ৩ বন্ধু রাতের ট্রেনে রওনা দিলাম চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। যেহেতু সড়ক পথে জ্যামের সম্ভাবনা ছিলো তাই আর রিস্ক না নিয়ে ট্রেনকে বেছে নিলাম। ভাড়া ছিলো জনপ্রতি ৩৪৫ টাকা। রাত ৯ টার ট্রেন, ভোর ৫:৩০ এর দিকে চট্টগ্রাম পৌঁছলাম। এরপর সিএনজি রিজার্ভ নিয়ে গেলাম অক্সিজেন। ভাড়া নিয়েছিল ১৫০ টাকা। সেখান থেকে রাঙ্গামাটির বাস, পাহাড়িকা এক্সপ্রেস জনপ্রতি ভাড়া ১২০ টাকা। বাস ছাড়ার সময় ছিলো ৬:৩০ যেহেতু হাতে সময় ছিলো তাই ওখানেই নাস্তা করলাম। ৩ জনের বিল আসলো ১৫০ টাকা। আমাদের প্রথমে ইচ্ছা ছিলো রাঙ্গামাটি যাবো কিন্তু পরে ভাবলাম কাপ্তাই যাই। প্রথমে ভেবেছিলাম বাস কাপ্তাই হয়ে রাঙ্গামাটি যাবে কিন্তু না বাস হাটহাজারি হয়ে রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্য যাচ্ছে তাই আমাদের ঘাগড়া বাজারে নেমে যেতে হলো। ৭:৩০ এর দিকে আমাদের ওখানে নামিয়ে দেয়। এরপর সেখান থেকে লোকাল সিএনজি করে বড়ইছড়ি আসলাম। জনপ্রতি ভাড়া ৩০ টাকা।

kaptai-road
kaptai-road

আপনি চাইলে বাসে করে বড়ইছড়ি যেতে পারবেন, সেক্ষেত্রে ভাড়া পরবে ২০ টাকা জনপ্রতি। সেখান থেকে গেলাম জুম রেস্তোরা। কাপ্তাই লেক এ  টিকেট কেটে ভেতরে ঢুকতে হয়। ওখানে একটু ঘুরে গেলাম পাশের কায়াক ক্লাবে। ওখানে কায়কিং করলাম ঘন্টা প্রতি পার বোট ২০০ টাকা যেহেতু আমরা ৩ জন ছিলাম তাই আমাদের ২ বোট লেগেছিল এবং টোটাল খরচ হয়েছিলো ৬০০ টাকা। ওখানে একটু ঝামেলা হয়েছিলো। সেটা আপনাদের পরে বলছি। তারপর কায়াক ক্লাবের পাশের রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেলাম টোটাল বিল এসেছিলো ৩৪০ টাকা।আইটেম ছিলো সাদা ভাত, আলু ভর্তা, থানকুনি পাতা ভর্তা, লইট্যা মাছ ফ্রাই, ডাল, মিনারেল ওয়াটার। তারপর ওখান থেকে ঠিক করলাম নেভি ক্যাম্পে যাবো। তোহ সিএনজির সাথে কথা বলে দেখা গেলো তারা নেভি ক্যাম্প পর্যন্ত রিজার্ভ যাবে ২৫০ টাকা। মানে নেভি ক্যাম্প থেকে আসার সময় আমাদের আবার সিএনজি নিতে হবে।
সিএনজির সাথে কথা বলার সময় দেখি বাস আসছে। তোহ সিএনজি বাদ দিয়ে বাসে উঠলাম। জনপ্রতি ১০ টাকা দিয়ে নতুন বাজার পৌছালাম। ওখান থেকে সিএনজি ১০০ টাকা রিজার্ভে নেভি ক্যাম্প। শুধুমাত্র নিয়ে যাবে। আপনি চাইলে লোকালেও যেতে পারবেন, জনপ্রতি ২০ টাকা দিয়ে। তারপর নেভি ক্যাম্পে জনপ্রতি ২০ টাকা এন্ট্রি ফি দিয়ে ঢুকলাম। তারপর কাপ্তাই লেক এর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা শুরু করলাম। আপনি চাইলে নেভি ক্যাম্পের লেকে বোট রাইডিং করতে পারবেন। কিন্তু এক্সাট কত করে ভাড়া পার বোট সেটা জানা নেই। সময় স্বল্পতার জন্য আমরা বোট রাইডিং করতে পারি নি। ফেরার সময় হঠাৎ ইমার্জেন্সির কারণে আর আমাদের রাঙ্গামাটি যাওয়া হলো না। আমাদের ঢাকাতে ফিরতে হলো। তাই নেভি ক্যাম্প থেকে আবার ১০০ টাকা করে সিএনজি ভাড়া করে নতুন বাজার আসলাম। চেষ্টা করবেন নেভি ক্যাম্প থেকে যেনো সন্ধ্যার আগে ফেরার কারণ সন্ধ্যার সময় থেকে বন্যহাতি রাস্তার উপরে শুয়ে থাকে এবং লোকজন দেখলে আক্রমণ করতে পারে। নতুন বাজার থেকে জনপ্রতি ৬৫ টাকা দিয়ে লোকাল বাসে চট্টগ্রাম বদ্দারহাট টার্মিনাল আসলাম। এক ফ্রেন্ডের সুগন্ধাতে কাজ ছিলো তাই ৮০ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে সুগন্ধা গেলাম। সেখানে কাজ সেরে ১০০ টাকা সিএনজি ভাড়া করে আসলাম দামপাড়া। এরমধ্যে এক বন্ধু বললো এসি বাসে যাবে তাই লন্ডন এক্সপ্রেসে জনপ্রতি ১০০০ টাকা করে ঢাকার টিকেট নিলাম। যেহেতু বাস অপারেটর হোটেল ব্রেকে যাত্রীদের ব্যুফে প্রোভাইড করছে তাই আমাদের রাতে হালকা নাস্তা ছাড়া কিছু লাগেনি। নাস্তাতে জনপ্রতি ২০ টাকা গিয়েছে। তোহ পরের দিন চলে আসলাম ঢাকাতে।

kaptai-river
kaptai-river

কায়াকিং এর সময় যে সমস্যাটা হয়েছিলো সেটা হলো আমাদের সময় দেয়া হয়েছিলো ১ ঘন্টা। কিন্তু ফেরার সময় উল্টো স্রোতের জন্য আমাদের লাগে ১:১০ মিনিট। তোহ অথরিটি আমাদের বলে ১:০৫ মিনিট পর্যন্ত কোন সমস্যা নেই কিন্তু যেহেতু আমাদের অতিরিক্ত আরো ৫ মিনিট লাগছে তাই আমাদের অতিরিক্ত আধা ঘন্টার টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ পার বোট এক্সট্রা ১০০ করে দিতে হবে। শুধুমাত্র আমরা নাহ চট্টগ্রাম থেকে একটা গ্রুপ গিয়েছিল তাদেরকেও সেম কথা বলা হয়েছিলো। আমরা অথরিটিকে বললাম যেহেতু তিনি আমাদের প্রথমে উল্টো স্রোত সম্পর্কে বলেন নি তাই আমাদের এই টুকু তোহ কন্সিডার করা যায়। কিন্তু তাদের কথা এটা কেন তারা বলবে, পর্যটকদের এটা জানতে হবে। এক জায়গায় আমরা প্রথম ঘুরতে যাবো সেখানে অথরিটি আছে পর্যটকদের সাহায্যের জন্য অথচ তারা আমাদের কিছু জানাবে নাহ, উল্টো আমাদেরই জেনে যেতে হবে। শেষ পর্যন্ত তারা স্বীকার করলো যেহেতু তারা বিজনেস করছে তাই তারা চায় কিভাবে বেশি টাকা ইনকাম করা যায়।
সিরিয়াসলি ম্যান এরকম বিহ্যাব করলে পর্যটক বাড়বে নাহ আরো কমবে। তারা বিজনেস করবে ভালো কথা অন্তত আমাদের এটা জানানো উচিৎ ছিলো যে ব্যাক করার সময় উল্টো স্রোতের কারণে সময় বেশি লাগবে। আমরা এটাও বলেছিলাম যেহেতু অতিরিক্ত ১০ মিনিট লেগেছে তাই আপনারা এক্সট্রা ১০ মিনিটের টাকা রাখেন। কিন্তু সেটাও তারা মানবে নাহ। পরে আমরা আর কথা না বাড়িয়ে যা এসেছিলো তা পরিশোধ করে চলে আসলাম।

এখন দেখা যাক মোট কত খরচ হলো জনপ্রতি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম(ট্রেন) – ৩৪৫/=
চট্টগ্রাম স্টেশন-অক্সিজেন(সিএনজি) – ১৫০/৩= ৫০/=
নাস্তা – ১৫০/৩= ৫০/=
অক্সিজেন-রাঙ্গামাটি(বাস) – ১২০/=
ঘাগড়া-বড়ইছড়ি(সিএনজি) – ৩০/=

বড়ইছড়ি থেকে জুম পর্যন্ত ৫০ টাকা সিএনজি ছিলো। বড়ইছড়িতে আমাদের পরিচিত আংকেল ছিলেন। তিনি আমাদের কায়াক ক্লাব পর্যন্ত ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন। তিনি সিএনজি ভাড়া আমাদের দিতে দেননি এবং জুমের প্রবেশ ফিও আমাদেরকে দিতে দে়ননি।

কায়াকিং – ৬০০/৩= ২০০/=
দুপুরের খাবার – ৩৪০/৩= ১১৩.৩৩/=
কায়াক ক্লাব-নতুন বাজার(বাস) – ১০/=
নতুন বাজার-নেভি ক্যাম্প(সিএনজি) – ১০০/৩= ৩৩.৩৩/=
নেভি ক্যাম্প প্রবেশ ফি – ২০/=
নেভি ক্যাম্প-নতুনবাজার(সিএনজি) – ১০০/৩= ৩৩.৩৩/=
নতুন বাজার-চট্টগ্রাম(বাস) – ৬৫/=
বদ্দারহাট-সুগন্ধা(রিক্সা) – ৮০/৩= ২৬.৬৬
সুগন্ধা-দামপাড়া(সিএনজি) – ১০০/৩= ৩৩.৩৩
দামপাড়া-ঢাকা(বাস) – ১০০০/=
নাস্তা – ২০/=
____________________________________________মোট = ২১৪৯.৯৮ অথবা ২১৫০ টাকা প্রায়

আপনারা চাইলে খরচ আরো কমাতে পারেন।

kaptai-bridge
kaptai-bridge

১.আপনারা যদি বদ্দারহাট থেকে কাপ্তাই যান তাহলে ৬৫/= করে লাগবে। তাহলে আমাদের মতো রাঙ্গামাটির ভাড়া + ঘাগড়া বাজার বড়ইছড়ি পর্যন্ত এক্সট্রা সিএনজি ভাড়া লাগবে নাহ।

২.আমরা ঢাকা ব্যাক করার সময় এসি বাসে আসছিলাম। আপনারা এটা এভোয়েড করে নন এসি অথবা ট্রেনে ব্যাক করতে পারেন।

৩.আপনারা ঢাকা থেকে সরাসরি কাপ্তাই বাসে যেতে পারেন এবং কাপ্তাই থেকে ঢাকা ব্যাক করতে পারেন।

৪.যেহেতু কাপ্তাই এর স্পট গুলো ঘুরতে সিএনজি অন্যতম মাধ্যম। তাই চেষ্টা করবেন ৪/৫ জন এর গ্রুপ করে ঘুরতে। তাহলে রিজার্ভ নিলেও খরচ কম হবে।

৫.আপনি যদি আরো কম বাজেটে যেতে চান তাহলে ঢাকা থেকে যাওয়ার সময় এবং চট্টগ্রাম থেকে ফেরার সময় মেইল ট্রেনে ব্যাক করবেন তাহলে খরচ আরো কম হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:
যেহেতু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এখন প্রতিনিয়তই জ্যাম হচ্ছে তাই ট্রেন ব্যবহার করাই উত্তম।

বাঙালি পর্যটকদের অনেক সুনাম রয়েছে। তারা ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে নিজেদের চিহ্ন রেখে আসে। তোহ কথা হচ্ছে অন্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে আপনার ভাবতে হবে নাহ। অন্তত নিজের ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবে প্রকৃতি নষ্ট করবেন নাহ।

লিখেছেনঃ Rafiul Anam

About sinan

Check Also

ganeshwari river

লেংগুরা ও গণেশ্বরী নদী | নেত্রকোনা

লেংগুরা ও গণেশ্বরী নদী : লেংগুরা নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *