muchapur beach
muchapur-beach

মুচাপুর ক্লোজার পর্যটন কেন্দ্র | নোয়াখালী

লিখেছেনঃ Imran Tahir

মুচাপুর ক্লোজার পর্যটন কেন্দ্র (মুচাপুর সি বিচ নামে পরিচিত)

এটি নোয়াখালী কোম্পানিগঞ্জের মুছাপুরে অবস্থিত. অত্যন্ত সুন্দর মনোরম পরিবেশে নিমিষেই একটি দিন কাটিয়ে দিতে পারবেন। বাজার পার হয়ে যাওয়ার পথে দেখবেন রাস্তার দু পাশে সারি সারি বাউল গাছ এর একপাশে ফশলি ক্ষেত যেখানে রাখালরা গরু মহিষ চরাচ্ছে, এবং এবং অপর পাশে ছোট ফেনী নদী যেখানে ছোট ছোট নৌকা নিয়ে মাঝিরা মাছ ধরছে। তিন থেকে চার কিলোমিটার যায়গা জুড়ে রাস্তার দু পাশের এ সৌন্দর্য দেখেই আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন। তার পর বাধেঁ যাওয়ার আগে প্রথমেই পড়বে বড় একটি ব্রিজ যা দিয়ে এ নদীর পানিকে নিয়ন্ত্রন করা হয়। একটু সামনে গিয়ে তারপর উত্তর দিকে কিছুদূর গেলেই সামনে পড়বে প্রায় ২ কিলোমিটার নির্মিত নদীর এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত বিশাল বাঁধ। যার কারনে রক্ষা পেয়েছে উক্ত গ্রামের হাজারো বাড়িঘর। প্রায় একশো কোটি টাকা ব্যায়ে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে সরকার এ বাঁধ নির্মাণ করেছে। বাঁধের পশ্চিম পাশের নদীতে ভিবিন্ন স্পিড বোর্ড এবং মাছ ধরার নৌকা আছে সেখানে জনপ্রতি ৩০ টাকা করে নদীতে ঘুরতে পারবেন বা আপনি ইচ্ছা করলে রিজার্ব ভাড়া নিয়ে ঘুরতে পারেন।

 

Muchapur beach
Muchapur-beach

মুচাপুর ক্লোজার পর্যটন কেন্দ্র বাঁধের কাজ প্রথমে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাতে থাকলে ও পরবর্তিতে এটি সেনাবাহিনীর নিয়ন্তনে কাজ শেষ হয়।
কারন এখানে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ডাকাতরা চাঁদা দাবি করত যার কারনে বাঁধের কাজটি দুই বার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তারপর সেনাবাহিনীর হাতে কাজ দেওয়া হয়। এখন ঐ এলাকায় কোনো ডাকাতরা র‍্যাবের  ক্রসফায়ারে তিনটি ডাকাত সর্দার নিহত হয়।

এই বাঁধের পূর্ব পাশে বিশাল নদী যা গিয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলেছে যার কারনে জোয়ারের সময় এখানে বিশাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। তখন এটি একটি ছোটখাটো বিচে পরিনত হয় ইচ্ছে করলে তখন নদীর পানিতে একটু ঝাপিয়ে নিতে পারবেন, এই নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন এখানে হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে।

muchapur bridge
Muchapur-bridge

এই বাঁধের ঠিক পূর্ব পশ্চিম কোনের এলাকা জুড়ে আছে বিশাল ম্যানগ্রোভ বন। ২০০৫ সালে সরকার এই বনে তিন জোঁড়া হরিণ ছাড়ছিলো কিন্তু জলদস্যুরা সেগুলো ধরে খেয়ে পেলছে।
ইচ্ছে করলে বনের ভিতর ঘুরে আসতে পারেন ভিবিন্ন পশুপাখি এবং গাছপালার সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে এখন অবশ্য বনে বড় গাছপালা নেই কারন কাঠুরিরা বড় বড় গাছপালা গুলো কেটে পেলছে। কিন্তু সরকার এখন বন রক্ষায় নতুন উদ্ধোগে বনে কয়েক হাজার গাছ রোপন করেছে। বনে ভিতরে ডুকে সময় থাকলে এর পূর্ব পাশের শেষ পর্যন্ত যেতে পারেন গেলে নদীতে বড় বড় ট্রলার দেখতে পাবেন যেগুলো মাছ ধরার জন্য সন্ধিপ, হাতিয়া, উড়ির চর এসব যায়গা গুলোতে যায়। এখান থেকে ইচ্ছে করলে ট্রলার ভাড়া করে নিঝুম দ্বীপ ও যেতে পারেন তার জন্য প্রথমেই হাতিয়া যেতে হবে সেখান থেকে নিঝুম দ্বীপ। এখানে নিরাপত্তার কোনো সমস্যা নাই ইচ্ছেমত ঘুরতে পারবেন।
জোয়ারের সময় এই বন পুরাটা পানিতে ভরে যায় তখন সৌন্দর্যটা সিলেটের রাতারগুলের মত মনে হয়। আর সময় পেলে অবশ্যই এখানের সূর্যাস্ত টা দেখে আসবেন মন ভালো হয়ে যাবে নিমিষেই। এখানে আপনি সূর্যদয় এবং সূর্যাস্ত দুইটাই দেখতে পারবেন।

muchapur mangrove
muchapur-mangrove

* মুচাপুর ক্লোজার পর্যটন কেন্দ্রে আসলে মোটর সাইকেল খেলাও দেখতে পারবেন। টিকেট জনপ্রতি ২০ টিকা করে।

নোয়াখালী আসলে অবশ্যই এই যায়গায় একবার ঘুরে আসবেন।

কোথায় খাবেন: এখানে খাওয়ার জন্য অনেক ধরনের হোটেল পাবেন । পর্যটক বাড়ার কারনে এখানে অনেক দোকান পাট এবং হোটেল নির্মিত হয়েছে। এবং খাঁটি মহিষের দই পাবেন।

যেভাবে যাবেন : যে কোনো যায়গা থেকে প্রথমে ফেনী আসবেন সেখান থেকে বসুরহাট বাজার যাবেন বাসে বাড়া ৩০ টাকা নিবে। বসুরহাট বাজার থেকে রিজার্ব সিএনজি যাওয়া আসা ৬০০-৮০০ টাকার ভিতর নিবে সময় অনুযায়ী আরো বেশীও নিতে পারে। ভেঙ্গে ভেঙ্গে ও যেতে পারেন তবে সেক্ষেত্রে আসার সময় গাড়ি না ও পেতে পারেন।
ফেনী থেকে সোনাগাজি হয়েও যেতে পারেন।

নিরাপত্তা: নিরাপত্তার কোনো অবাব নেই সবসময় এখানে পুলিশ পোর্স নিয়োগ আছে। এখন আবার নদীর দক্ষিন সাইড়ে ভাঙ্গন ঠেকাতে সেনাবাহিনী কতৃক নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।

সতর্কতা: পরিবেশ সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন। অনেকে বিরিয়ানির প্যাকেট বোতল ইত্যাদি যেখানে সেখানে ফেলে রেখে চলে যায়।
স্থানিয়দের সাথে ভালো ব্যাবহার করবেন। আমি নিজেও ওই যায়গার স্থানিয়😍। যায়গাটি আমাদের বাড়ি থেকে মাত্র ৪ কিলো দূরে অবস্থিত।

About sinan

Check Also

kaptai-lake

কাপ্তাই লেক ভ্রমণ | চট্রগ্রাম

কাপ্তাই লেক ট্যুর ১০ মে পরীক্ষা শেষ করে ৩ বন্ধু রাতের ট্রেনে রওনা দিলাম চট্টগ্রামের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *