Kuakata beach

সাগরকন্যা কুয়াকাটা | পটুয়াখালী

লিখেছেনঃ জিন জিয়ান

Kuakata beach
Kuakata-beach

কিভাবে যাবেনঃ

– ঢাকা টু পটুয়াখালী (লঞ্চ):

লঞ্চ এর ডেকের টিকিট ৩০০ টাকা আর যদি কেবিন ভাড়া নেন তবে
ডাবল কেবিন ২,০০০/- টাকা আর সিঙেল ক্যাবিন ১,০০০/-
প্রতিটি ক্যাবিন এর সাথে একটা টিকিট দেওয়া হবে। (ডাবল = ২ টিকেট, সিংগেল= ১ টিকেট)
আমরা ৫ জন গিয়েছিলাম ১টা ডাবল ক্যাবিন নিলাম আর ৩টা টিকেট নিয়েছি।

– লঞ্চ থেকে নামার পর একটা আউটো রিক্সা নিলাম যেটা আমাদের বাস স্ট্যান্ড-এ পৌঁছে দিয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি কুয়াকাটার বাস (লোকাল) পাওয়া যায়। ভাড়া ১৫০/- টাকা। আপনারা দর কশাকশি করে ১২০/- এর মধে নিতে পরবেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেদিন মে ডে থাকায় বাস ছিলনা বলে একটু কষ্ট পোহাতে হয়ছিল। আমরা অটো দিয়ে আমতলা নেমে ঢাকা-কুয়কাটা বাস পাই। সেটা ধরেই পৌছে যাই।

– কুয়াকাটা-ঢাকা বাস যেটার টিকেট ৬০০/- টাকা

সেখানে অনেক বাইকার আছে যারা কুয়াকাটার সুন্দর প্লেসগুলো বাইকে করে ঘুড়িয়ে দেখায়। সারাদিন ঘুড়াঘুড়ি ১৮ টি স্পট দেখায় খরচ নেয়নেয় ৭০০ টাকা ২জন সর্বচচ।

– থাকার হোটেল ভাড়া নিয়েছিল ৮০০ টাকা। ৫টা বেড, বড় রুম। যদিও আমরা অফ সিজনে গিয়েছিলাম বলে এমন সুলভ মূল্যে হোটেল পেয়েছি। আরও কমে পাবেন।
– খাবার ১৫০৳ + ১৫০৳ = ৩০০ দুপুর-রাত
টুনা BBQ = ২৩০৳,
কাকড়া BBQ = ৫০ টাকা প্রতি পিস।
চিংড়ি ছোট একপ্লেট BBQ ৭০৳

– বিচে অনেক ফোটগ্রাফার পাওয়া যায় চাইলে তাদের থেকে ফোটো তুলে নিতে পারেন, অফ সিজনে ১০৳ প্রতি ছবি।

– সামুদ্রিক শুটকি আধাকেজি ১২০-২০০৳ একএকটা পেকেট।

সবমিলিয়ে আমাদের প্রতিজন ২,৫০০ – ২,৭০০৳ পড়েছে

Kuakata fish
Kuakata-fish

ভ্রমন  শুরু-

প্রথম দিনঃ

প্রথমেই নেমে সারা দুপুর সমুদ্রে খেলা তারপর ব্যাখ্যা নাদিলেই নয়।
• শুটকি পল্লী: সমূদ্রের হরেক রকম অজানা মাছের শুটকি দেখতে পারবেন শুটকি পল্লীতে। তাজা মাছ কেটে শুটকি দিচ্ছে সেখানে। এসব বিদেশে রপ্তনী হয়, আপনি চাইলে কিনেও নিতে পারেন পাইকারী দামে।
• অতিথি পাখি: সমূদ্র সৈকতের তীরে অতিথি পাখির সন্ধান মেলে। সাধারণত শীতকালেই বেশি দেখা যায়।
• লেবুর চড়: অসাধারণ একটি জায়গা। এখানে লেবু একজন লোকের নাম।
• ফিস ফ্রাই: লেবুর চড়ের পাশেই ফিস ফ্রাই। এখানে আমরা সমূদ্রের তীরে বসে জেলেদের মাছ মারা দেখা আর সবে সংগ্রহ করা সমূদ্রের তাজা মাছে দুপুরের খাবার শেষ করা। টুনা, ফ্লাইং ফিশ, কাকরা ও চিংড়ীর বার্বিকিউর অনুভূতিই আলাদা…!
• ঝিনুক চড়: সমূদ্রের তীরে হাজার হাজার ঝিনুকের সমাহার ঝিনুক চড়ে। সাদা, ছাই, হালকা বেগুনী হরেক রকম রঙ্গের ঝিনুক দেখে আপনার মন কৌতুহলী হয়ে উঠবে।
• তিন নদীর মোহনা: এখানে দাড়িয়ে তিন নদীর মোহনা দেখতে পারবেন, যেটি সমূদ্রে এসে বিলীন হয়ে গিয়েছে। জেলেদের মাছ ধরাও দেখা যায় এখানে।
• সুন্দরবন/ফাতরার চড়: সুন্দরবনের শেষ অংশ হলো কুয়াকাটায় সমূদ্রের তীরে। কুয়াকাটায় আপনি সুন্দরবনের সুন্দয্যও অবলোকন করতে পারবেন।
• সমূদ্রের ভয়ংকররূপ: এগুলো দেখতে দেখতে এ সময়ের মধ্যেই সমূদ্র তার ভয়ংকর রূপে গর্জে উঠবে। আমরা তার সে রূপে ঝাপাঝাপি করলাম কিছুক্ষণ। সে অনুভূতি বলে শেষ করা যাবে না। এর মধ্যে আমরা সমূদ্রের তীরে ফুটবল খেলা
গোসল শেষেই আমরা দুপুরের খাবার ভোজন করলাম। তারপর বিশ্রাম…!
• সূর্যাস্ত: বিকেলে আমরা সমূদ্রের পাড়ে সূর্যাস্ত দেখলাম। কি অপরূপ মহিমা!!!
তারপর সন্ধ্যার হালকা নাস্তা সেরে নিলাম।
• বৌদ্ধ মন্দির: গৌতম বুদ্ধের বিশাল মূর্তি দেখা
• মিষ্টি পানির কূপ
• রাখাইন পল্লি, রাখাইন মাকেট ও তাঁত বুনা এসবগুলো আমরা একসাথেই দেখলাম।
তারপর হোটেলে ফিরে রাতের খাবার খেলাম ও বিশ্রাম নিলাম।
আবার বেড়িয়ে যাই সমূদ্রের বুকে জ্যোৎস্না-শোভিত রাত দেখার ও সমূদ্রের গর্জন শোনার জন্য।
রাত আরেকটি আড্ডা । তারপর রাতের খাবার। সবাই রাত ০১.০০ টার মধ্যে সমূদ্রের তীরে নির্দিষ্ট হোটেলে ঘুমিয়ে যাব।

Kuakata

দ্বিতীয় দিনঃ

• সূর্যোদয়: ভোরে ঘুম থেকে উঠেই আমরা রওনা দিলাম সূর্যোদয় দেখার উদ্দেশ্যে। সকালে সমূদ্রের শিশুকন্যার মত শান্ত রূপটি দেখে নিব মন ভরে যায়।
• কেওড়ার চড়
• ঝাউবন: কুয়াকাটার সবচেয়ে সুন্দর জায়গা। সত্যিই সুন্দর। হারিয়ে যেতে ইচ্ছা করবে এখানে। আমরার কিছুক্ষণের জন্য দল নিয়ে হারিয়ে গেলাম।
• কাকঁড়ার চড়: হাজার হাজার কাকঁড়া ছুটাছুটি করছে। লাল টকটকে।
সারাদিন চরের গ্রামে ঘুরে হোটেলে ফিরা।

তারপর আমার সমূদ্রে গোসল ।
তারপর দুপুরের লাঞ্চ। তারপর ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা…। আমরা ঢাকায় পরদিন সকাল ৬টার মধ্যে

বিঃদ্রঃ প্রকৃতি আমাদের সম্পদ। আর আমাদের দেশের প্রতিটি পর্যটন শিল্প আমাদের গর্ব। যদি আমরাই সেটার দূষণ করি আমাদে দেশের ক্ষতি। আমরা শুধু দূষণ থেকে বিরতই নয়, প্রতিরোধও গরব। ইনশাআল্লাহ।

About sinan

Check Also

kaptai-lake

কাপ্তাই লেক ভ্রমণ | চট্রগ্রাম

কাপ্তাই লেক ট্যুর ১০ মে পরীক্ষা শেষ করে ৩ বন্ধু রাতের ট্রেনে রওনা দিলাম চট্টগ্রামের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *